Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts
Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts

Wednesday, October 23, 2024

নবী দানিয়েল কি হিন্দুস্থান শাসন করেছিলেন?

নবী দানিয়েল কি হিন্দুস্থান শাসন করেছিলেন?

 


লেখকঃ পাষ্টর জনসন সরকার।

হিন্দু শব্দটি একটি প্রতিশব্দ যা ইন্দো-আর্য এবং সংস্কৃত শব্দ সিন্ধু থেকে উদ্ভূত । যার অর্থ "জলের একটি বৃহৎ অংশ" । এটি সিন্ধু নদীর নাম হিসাবে ব্যবহৃত হতো এবং এর উপনদীগুলিকেও উল্লেখ করা হত। প্রকৃত শব্দ 'হিন্দু' প্রথম দেখা যায়, গ্যাভিন ফ্লাড বলেন, " সিন্ধু (সংস্কৃত: সিন্ধু )" নদীর ওপারে বসবাসকারী লোকদের জন্য একটি ফার্সি ভৌগোলিক পরিভাষা হিসাবে । গেবিন ফ্লাডের মতে, "আসল পরিভাষা হিন্দু প্রথম দেওয়া হয় ফার্সি ভৌগোলিক পরিভাষা থেকে যা দ্বারা সিন্ধু নদীর পাশে বসবাসকারী লোকেদের বোঝানো হত। শব্দটি দিয়ে তখন ভৌগোলিক অবস্থান বোঝানো হত এবং এর দ্বারা কোন ধর্মকে বোঝানো হত না, প্রাচীন কাল থেকে হিন্দুস্থান অনেক শাসকদের দ্বারা শাসিত হয়ে পরিচালিত হয়েছিল।   

মহারাজা অহশ্বেরশের যাকে ‘Xerxes বলা হয়’ তিনি খ্রীষ্টপূর্ব ৪৮৬ থেকে ৪৬৫ মধ্যে হিদুস্থান থেকে শুরু করে ১২৭টি প্রদেশের উপরে রাজ্যত্ব করতেন, “ঐ অহশ্বেরশ হিন্দুস্থান হইতে কূশ দেশ পর্যন্ত একশত সাতাইশ প্রদেশের উপরে রাজত্ব করিতেন।” (ইষ্টের ১:১)

"তখন তৃতীয় মাসে, অর্থাৎ সীবন মাসের ত্রয়োবিংশ দিনে রাজ-লেখকেরা আহূত হইল, আর মর্দখয়ের সমস্ত আজ্ঞানুসারে যিহূদীদিগকে, ক্ষিতিপালদিগকে, এবং হিন্দুস্থান অবধি কূশ দেশ পর্যন্ত একশত সাতাইশ প্রদেশের মধ্যে প্রত্যেক প্রদেশের অক্ষরানুসারে ও প্রত্যেক জাতির ভাষানুসারে দেশাধ্যক্ষগণকে ও প্রদেশ সকলের প্রধানবর্গকে এবং যিহূদীদের অক্ষর ও ভাষানুসারে তাহাদিগকে পত্র লেখা গেল।"(ইষ্টের৮:৯;)

মহারাজা অহশ্বেরশেরের পুত্র ছিলেন দারিয়াবস তিনি পরবর্তিতে পিতার অধিকারকৃত এলাকগুলোতে রাজ্যত্ব করেন, “মাদীয় বংশজাত অহশ্বেরশের পুত্র যে দারিয়াবস কল্‌দীয় রাজ্যের রাজপদে নিযুক্ত হইয়াছিলেন”(দানিয়েল৯:১) রাজা দারিয়াবস তার রাজ্য পরিচালনার সুবিধার্থে ১২০ জন ক্ষিতিপাল এবং তাদেরকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য ৩ জন উচ্চ পদস্থ অধ্যক্ষ নিযুক্ত করেন নবী দানিয়েল ছিলেন তাদের মধ্যে একজন, “দারিয়াবস ইহা বিহিত বুঝিলেন, যেন তিনি রাজ্যের সর্বস্থানে রাজ্যের উপরে একশত বিংশতি জন ক্ষিতিপাল,  এবং তাঁহাদের উপরে তিন জন অধ্যক্ষকে নিযুক্ত করেন; সেই তিন জনের মধ্যে দানিয়েল একজন ছিলেন। ইহার অভিপ্রায় এই, যেন ঐ ক্ষিতিপালেরা উঁহাদের কাছে হিসাব দেন, আর রাজার ক্ষতি না হয়।”(দানিয়েল৬:১-২;)

অর্থাৎ নবী দানিয়েল রাজত্ব পরিচলানার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি তার সময়ে হিন্দুস্থান (ভারত) সহ অনেক দেশের শাসন করেছিলেন এবং পরিচালনা করেছিলেন।  এ থেকে আমরা শিক্ষা পাই আমাদের নবীর দ্বারাও ইয়াওয়ে এলোহীম হাজার-হাজার বছর পূর্বেও আমাদের ভারতবর্ষকে পরিচালিত করেছিলেন।পরবর্তিকালে প্রভু যীশু খ্রীষ্টের প্রেরিত থোমা  ৫২ খ্রীষ্টাব্দে হিন্দুস্থানের লোকেদের সত্যের পথে আহব্বান করার জন্য ইস্রায়েল দেশ থেকে যাত্র করে এসেছিলেন এবং তার এই প্রচেষ্টার জন্য ভারতবর্ষে খ্রীষ্টের আলো উদিত হয়েছিল।  

Sunday, October 6, 2024

পবিত্র বাইবেলে ‘বিমান’ সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী

পবিত্র বাইবেলে ‘বিমান’ সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী

 

লেখকঃ পাষ্টর জনসন সরকার।

পবিত্র বাইবেলে অসংখ্য ভবিষ্যৎবাণী যার পূর্নতা আমরা দেখতে পাই, পবিত্র বাইবেল যে শুধু আমাদের জীবনের বিষয়ে, খ্রীষ্টের আগমনের বিষয়ে অথবা শেষকাল সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করেছে তা নয় পবিত্র বাইবেল বর্তমান টেকনোকলজি সম্পর্কেও ভবিষ্যৎবাণী করেছে যা শতভাগ সত্য প্রমানিত হয়েছে। তার মধ্যে আমরা দেখব পৃথিবীর ইতিহাসে এক শেষ্ট আবিস্কার বিমান সম্পর্কে


But they that wait upon the LORD shall renew their strength; they shall mount up with wings as eagles; they shall run, and not be weary; and they shall walk, and not faint. - Isaiah 40:31
; King James Bible

 

কিন্তু যাহারা সদাপ্রভুর অপেক্ষা করে, তাহারা উত্তরোত্তর নূতন শক্তি পাইবে; তাহারা ঈগল পক্ষীর ন্যায় পক্ষসহকারে ঊর্ধ্বে উঠিবে; তাহারা দৌড়াইলে শ্রান্ত হইবে না; তাহারা গমন করিলে ক্লান্ত হইবে না।– যিশাইয়৪০:৩১; কেরি (খ্রীষ্টপূর্ব৭৩৯-৬৮১)

ঐতিহাসিক লিওন উরিসের গ্রন্থ এক্সোডাস[1] এই উদ্ধৃতিটি ব্যবহার করেছেন যখন  ইয়েমেন থেকে  ইহুদিদের বিমানে চড়ে ইস্রায়েলে প্রবেশ করে তখন এই ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূর্ণতা পেয়েছিল।  

এই শাস্ত্র পদে স্পষ্ট বলা হয়েছে “মানুষ ঈগল পাখির দুই ডানার /পাখার ন্যায় আকাশে উড়বে” “they shall mount up with wings as eagles;” এখান বিমান তৈরীর ভবিষ্যৎবাণী পাওয়া যায় যা পরে বাস্তবায়িত হয়েছিল।

পবিত্র বাইবেলে এটাও ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে সার পৃথিবী থেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইহুদিরা “আকাশে উড়ে ইস্রায়েলে ফিরে আসবে”

 তুমি চারিদিকে চক্ষু তুলিয়া দেখ, উহারা সকলে একত্র হইয়া তোমার কাছে আসিতেছে; তোমার         পুত্রগণ দূর হইতে আসিবে, তোমার কন্যাগণ কক্ষে করিয়া আনীত হইবে। তখন তুমি তাহা দেখিয়া দীপ্যমানা হইবে, তোমার হৃদয় স্পন্দন করিবে ও বিকশিত হইবে; কেননা সমুদ্রের দ্রব্যরাশি তোমার দিকে ফিরান যাইবে, জাতিগণের ঐশ্বর্য তোমার কাছে আসিবে। তোমাকে আবৃত করিবে উষ্ট্রযূথ, মিদিয়নের ও ঐফার দ্রুতগামী উষ্ট্রগণ; শিবা দেশ হইতে সকলেই আসিবে; তাহারা সুবর্ণ ও কুন্দুরু আনিবে, এবং সদাপ্রভুর প্রশংসার সুসমাচার প্রচার করিবে। কেদরের সমস্ত মেষপাল তোমার নিকটে একত্রীকৃত হইবে, নবায়োতের মেষগণ তোমার পরিচর্যা করিবে; তাহারা আমার যজ্ঞবেদির উপরে উৎসৃষ্ট হইয়া গ্রাহ্য হইবে, আর আমি আপনার ভূষণস্বরূপ গৃহ বিভূষিত করিব। এ কাহারা উড়িয়া আসিতেছে, মেঘের ন্যায়, আপন আপন খোপের দিকে কপোতের ন্যায়? সত্যই উপকূল সকল আমার অপেক্ষা করিবে, তর্শীশের জাহাজ সকল অগ্রগামী হইবে, দূর হইতে তোমার সন্তানদিগকে আনিবে, তাহাদের রৌপ্য ও সুবর্ণের সহিত আনিবে, তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামের জন্য, ইস্রায়েলের পবিত্রতমের জন্য, কেননা তিনি তোমাকে বিভূষিত করিয়াছেন।- যিশাইয়৬০:৪-৯;

এখান থেকে স্পষ্ট বিমানের ধারনা পাওয়া যায় যা বিমান তৈরীর পূর্বেই পবিত্র বাইবেলে ঘোষণা করা   হয়েছে। বিমান তৈরি হয়েছিল ১৭ডিসেম্বর ১৯০৩ খ্রীঃ কিন্তু পবিত্র বাইবেলে  খ্রীষ্টপূর্ব প্রায় ৭৩৯-৬৮১ পূর্বেই বিমান তৈরীর স্পষ্ট ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছি। পবিত্র বাইবেল হলো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট গ্রন্থ যার মধ্যে এমন তথ্য বিস্তারিত ভাবে উল্লেখিত  রয়েছে যা বিশ্বে অন্য কোন ধর্ম গ্রন্থে উল্লেখিত নেই।

 

Sunday, June 16, 2024

কুরআন কি “আল্লাহর পুত্র থাকার” বিষয়টিকে অস্বীকার করে?

কুরআন কি “আল্লাহর পুত্র থাকার” বিষয়টিকে অস্বীকার করে?

 



লেখকঃ পাষ্টর জনসন সরকার।

কুরআনে প্রায় দাবি করা হয়েছে “আল্লাহর কোন পুত্র নেই যেহতু তার কোন স্ত্রী নেই”

“‘আর নিশ্চয় আমাদের রবের মর্যাদা সমুচ্চ। তিনি কোন সংগিনী গ্রহণ করেননি এবং না কোন সন্তান’।” ৭২:৩ আল-বায়ান”

“আর তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি পবিত্র মহান; বরং আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা তাঁরই । সব তাঁরই অনুগত।”  ২:১১৬ আল-বায়ান

কিন্তু সেই কুরআনের মধ্যেই ঈসা মসীহকে আল্লাহর পুত্র বলা হয়েছে,

সূরা ৪:১৭১;

হে কিতাবীগণ, তোমরা তোমাদের দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর উপর সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না। মারইয়ামের পুত্র মাসীহ ঈসা কেবলমাত্র আল্লাহর রাসূল ও তাঁর কালিমা, যা তিনি প্রেরণ করেছিলেন মারইয়ামের প্রতি এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আন এবং বলো না, 'তিন'। তোমরা বিরত হও, তা তোমাদের জন্য উত্তম। আল্লাহই কেবল এক ইলাহ, তিনি পবিত্র মহান এ থেকে যে, তাঁর কোন সন্তান হবে। আসমানসূহে যা রয়েছে এবং যা রয়েছে যমীনে, তা আল্লাহরই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। আল-বায়ান

হে আহলে কিতাব! তোমরা স্বীয় ধর্মে সীমা অতিক্রম করনা এবং আল্লাহর বিরুদ্ধে সত্য ব্যতীত বলনা; নিশ্চয়ই মারইয়াম নন্দন ঈসা মাসীহ্ আল্লাহর রাসূল ও তাঁর বাণী - যা তিনি মারইয়ামের প্রতি সঞ্চারিত করেছিলেন এবং তাঁর আদিষ্ট আত্মা; অতএব আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন কর। আর ‘‘আল্লাহ তিন জনের একজন’’- এ কথা বলা পরিহার কর। তোমাদের কল্যাণ হবে; নিশ্চয়ই আল্লাহই একমাত্র ইলাহ; তিনি কোন সন্তান হওয়া হতে পুতঃ, মুক্ত। নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যা আছে তা তাঁরই এবং আল্লাহই কার্য সম্পাদনে যথেষ্ট। মুজিবুর রহমান

১।এই আয়াতে বলা হয়েছে “  কুরআনের ঈসা মসীহ একজন মানুষ” এর পাশাপাশি তিনি “আল্লাহর কালিমা এবং আল্লাহর রূহ” (ঐশ্বরিক।/Divine) খ্রীষ্টানরা এটাই বিশ্বাস করে প্রভু যীশু খ্রীষ্ট যখন মানব রূপে এসেছিলেন তখন তিনি ১০০% মানুষ এবং ১০০% ঐশ্বরিক/Divine ছিলেন।

২। এই আয়াতে লেখা হয়েছে“তিনি পবিত্র মহান এ থেকে যে, তাঁর কোন সন্তান হবে।/তিনি কোন সন্তান হওয়া হতে পুতঃ, মুক্ত।” কিন্তু আমরা যদি আরবীতে দেখি এমন কথা সেখানে লেখাই নাই তার জন্য আমরা কুরআনের Word by Word অনুবাদ গুলো দেখবোঃ

 Literal

You The Book`s people, do not exaggerate/exceed the limit in your religion, and do not say on (about) God except the truth , but the Messiah, Jesus, Mary`s son (is) God`s messenger and His word/expression He threw it away to Mary, and a Soul/Spirit (could be Gabriel) from Him; so believe with God, and His messengers, and do not say: "Three." Stop (it is) best for you, but God (is) one God, His praise/glory that to be for him a child; for Him what (is) in the skies/space and what (is) in the earth/Planet Earth, enough/sufficient with God (as a) guardian/protector .[1]

 

এখানে বলা হয়েছে “His praise/glory that to be for him a child;”/ “তার প্রশংসা/গৌরব যে তার জন্য একটি সন্তান আছে”
 

Word for Word

O People (of) the Book! (Do) not commit excess in your religion and (do) not say about Allah except the truth. Only the Messiah, Isa, son (of) Maryam, (was) a Messenger (of) Allah and His word which He conveyed to Maryam and a spirit from Him. So believe in Allah and His Messengers. And (do) not say, "Three;" desist (it is) better for you. Only Allah (is) God One. Glory be to Him! That He (should) have for Him a son. To Him (belongs) whatever (is) in the heavens and whatever (is) in the earth. And sufficient (is) Allah (as) a Disposer of affairs.[2]

“Glory be to Him! That He (should) have for Him a son.”  এই দ্বিতীয় অনুবাদে একটু অনুবাদক অর্থের পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছেন তিনি ব্রেকেটে (should) কথাটি  লিখেছেন। যখন ব্রেকেটে কিছু লেখা হয় তা অনুবাদকের নিজের মতামত  হয় সেটা মূল TEXT এ থাকে না তাই (should) কথাটি  বাদ দিলে পাওয়া যায় “Glory be to Him! That He  have for Him a son.”/ “তাঁর মহিমা! যে তাঁর জন্য তাঁর একটি পুত্র রয়েছে।” 

এই আয়াতে কুরআনের ঈসা মসীহ এবং আল্লাহকে নিয়েই কথা হচ্ছে তো এটা স্পষ্ট যে কুরআন স্বীকার করে যে ঈসা মসীহ ইবনুল্লাহ(আল্লাহর পুত্র) অধিকাংশ কুরআনের অনুবাদকেরা এই অনুবাদটিকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে মিথ্যা অনুবাদ করে।

 

কুরআনের লেখক কি  খ্রীষ্টানদের ত্রিত্ববাদের ধারনা সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন?

কুরআনের লেখক কি খ্রীষ্টানদের ত্রিত্ববাদের ধারনা সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন?

 



লেখকঃ পাষ্টর জনসন সরকার।

কুরআনে যেভাবে ত্রিত্ববাদের ধারনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তা দেখে একজন খ্রীষ্টানের মনে ধারনা আসতে পারে  “কুরআন যিনি লিখেছিলেন তিনি কি আদৌ ত্রিত্ববাদ বুঝতেন?”  আর এই ধরনের চিন্তা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয় তার উল্লেখযোগ্য কারন পেশ করছি।

১। কুরআন অনুসারে পিতা ঈশ্বর ত্রিত্বের তৃতীয় ব্যক্তিঃ সূরা ৫:৭৩;

অবশ্যই তারা কুফরী করেছে, যারা বলে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তিন জনের তৃতীয়জন’। যদিও এক ইলাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আর যদি তারা যা বলছে, তা থেকে বিরত না হয়, তবে অবশ্যই তাদের মধ্য থেকে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব স্পর্শ করবে। আল-বায়ান

 hey have certainly disbelieved who say, "Allah is the third of three." And there is no god except one God. And if they do not desist from what they are saying, there will surely afflict the disbelievers among them a painful punishment. -Sahih International


Surely, disbelievers are those who said: “Allah is the third of the three (in a Trinity).” But there is no ilah (god) (none who has the right to be worshipped) but One Ilah (God -Allah). And if they cease not from what they say, verily, a painful torment will befall the disbelievers among them.- Muhsin Khan

They surely disbelieve who say: Lo! Allah is the third of three; when there is no Allah save the One Allah. If they desist not from so saying a painful doom will fall on those of them who disbelieve.- Pickthall

Indeed they have already disbelieved, the ones who have said, “Surely Allah is the third of three.” And in no way is there any god except One God. And in case they do not refrain from what they say, indeed there will definitely touch the ones of them that have disbelieved a painful torment.- Dr. Ghali

পৃথিবীর কোন খ্রীষ্টান সম্প্রদায় নেই যারা পিতা ঈশ্বরকে ত্রিত্ববাদের তৃতীয় জন বলে মনে করে। পিতা ঈশ্বর ত্রিত্ববাদের সর্ব প্রথমে অবস্থান করেন তৃতীয়তে নয়। কিন্তু কুরআনের বেনামী লেখক ত্রিত্ববাদের ধারনাটি বুঝতেই পারেন নি, যার কারনে খ্রীষ্টানের বিশ্বাস নিয়ে ভুল তথ্য পেশ করেছেন।

২। কুরআনের লেখক মরিয়মকে ত্রিত্ববাদের অংশ মনে করতেনঃ

আল-মায়েদা | Al-Ma'ida | سورة المائدة - আয়াতঃ ৭৩ এর তাফসীর করতে গিয়ে কুরআনের তাফসীরকারীরা এই ভুল তুলে ধরেছেন,

১) অর্থাৎ ঈসা মসীহ আলাইহিস সালাম, রূহুল কুদ্‌স ও আল্লাহ, কিংবা মসীহ, মারইয়াম ও আল্লাহ -সবাই আল্লাহ। তাদের মধ্যে একজন অংশীদার হলেন আল্লাহ। এরপর তারা তিনজনই এক এবং একজনই তিন। এ হচ্ছে নাসারাদের সাধারণ বিশ্বাস। নাসারাদের মালেকিয়া, ইয়াকুবিয়্যা ও নাসতুরিয়্যা এ তিনটি দলই উপরোক্ত বিশ্বাস পোষণ করে। [ইবন কাসীর] এ যুক্তিবিরোধী ধর্মবিশ্বাসকে তারা জটিল ও দ্ব্যর্থবোধক ভাষায় ব্যক্ত করে। অতঃপর বিষয়টি যখন কারো বোধগম্য হয় না, তখন একে ‘বুদ্ধি বহির্ভূত সত্য বলে আখ্যা দিয়ে ক্ষান্ত হয়। সুদ্দি বলেন, এখানে তিনের এক ইলাহ বলা হয়েছে। তিনজন বলতে, ঈসা, তার মা মারইয়াম এবং আল্লাহকে বোঝানো হয়েছে। কারণ, অন্য আয়াতে কোন কোন নাসারাদের দ্বারা ঈসা ও তার মাকে ইলাহ হিসেবে গণ্য করার কথা উল্লেখ করে তা খণ্ডন করা হয়েছে। [আল-মায়েদাহ: ১১৬] ইবন কাসীর বলেন, এ মতটি অধিক প্রাধান্যপ্রাপ্ত। [ইবন কাসীর]-তাফসীরে জাকারিয়া[1]

এখানে স্পষ্ট দেখা যায় কুরআনের বেনামী লেখক মরিয়মকে ত্রিত্ববাদের অংশ হিসাবে মনে করতেন “তিনজন বলতে, ঈসা, তার মা মারইয়াম এবং আল্লাহকে বোঝানো হয়েছে।”

৩। সূরা ৫ আয়াত১৬৬  স্পষ্ট বলা হয়েছে খ্রীষ্টনরা মরিয়মকে ত্রিত্বের অংশ বলে মনে করে,

আর যখন আল্লাহ বলবেনঃ হে ঈসা ইবনে মারইয়াম! তুমি কি লোকদেরকে বলেছিলেঃ তোমরা আল্লাহর সাথে আমার ও আমার মায়েরও ইবাদাত কর? ঈসা নিবেদন করবেঃ আপনি পবিত্র! আমার পক্ষে কোনক্রমেই শোভনীয় ছিলনা যে, আমি এমন কথা বলি যা বলার আমার কোন অধিকার নেই; যদি আমি বলে থাকি তাহলে অবশ্যই আপনার জানা থাকবে; আপনিতো আমার অন্তরে যা আছে তাও জানেন, পক্ষান্তরে আপনার জ্ঞানে যা কিছু রয়েছে আমি তা জানিনা; সমস্ত গাইবের বিষয় আপনিই জ্ঞাত।- মুজিবুর রহমান

And [beware the Day] when Allah will say, "O Jesus, Son of Mary, did you say to the people, 'Take me and my mother as deities besides Allah?'" He will say, "Exalted are You! It was not for me to say that to which I have no right. If I had said it, You would have known it. You know what is within myself, and I do not know what is within Yourself. Indeed, it is You who is Knower of the unseen. Sahih International

বর্তমান তথাকথিত মুসলিম দাঈ যারা আছেন তারা দাবি করে বলেন “না না এখানে ত্রিত্ববাদের অংশ হিসাবে মরিয়মকে নাম উল্লেখ করা হয় নি।” তারা এও দাবি করেন “কাথলিকরা মরিয়মের উপাসনা করে তাই এই আয়াতে ঠিকি লেখা আছে।”

হাস্যকর বিষয় হলো তারা প্রথমেই দাবি করে এই আয়াতে ত্রিত্ববাদে মরিয়মের অবস্থান নিয়ে কিছু  বলা হয় নি কিন্তু তার পরের যুক্তিতেই কাথলিকদের দিলীল পেশ করে। তাদের এটা জানে রাখা উচিত কথালিকরা মরিয়মের উপাসনা করলেও তারা তাকে ত্রিত্বের ঈশ্বর হিসাবে মনে করে না।

ভুলঃ “এই আয়াতে ত্রিত্ববাদে মরিয়মের অবস্থান নিয়ে কিছু  বলা হয় নি” তাফসীরকারীদের দলীল প্রমানিত করে এই আয়াতে স্পষ্ট ত্রিত্ববাদে মরিয়মের অবস্থান নিয়ে কথা বলা হয়েছে

“[1] এ হল খ্রিষ্টানদের দ্বিতীয় ফির্কা, যারা তিন ঈশ্বরের দাবীদার ছিল। যেটাকে তারা (One God in Three Person) বলে। আর এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে যদিও খোদ তাদের মধ্যেই মতবিরোধ বিদ্যমান, তবুও সঠিক কথা এই যে, তারা ঈসা (আঃ) ও তাঁর মা মারয়্যাম (‘আলাইহাস্ সালাম)-কেও আল্লাহর সাথে (সমকক্ষ ভেবে) মাবূদ বা উপাস্যরূপে গণ্য করতো; যেরূপ কুরআন সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আল্লাহ কিয়ামতের দিন ঈসা (আঃ)-কে জিজ্ঞাসা করবেন, {أأنتَ قُلتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِن دُونِ اللّه} অর্থাৎ, তুমি কি লোকদেরকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আমাকে ও আমার আম্মাকে মা’বূদ (উপাস্য) বানিয়ে নাও? (সূরা মাইদাহ ১১৬) এখান থেকে এ কথা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, খ্রিষ্টানরা ঈসা (আঃ) ও তাঁর মাতা মারয়্যাম (‘আলাইহিস্ সালাম)-কে উপাস্য হিসাবে গণ্য করে। আর আল্লাহ তৃতীয় উপাস্য বা মা’বুদ। যাকে তারা ‘তিনের তৃতীয়’ বলে আখ্যায়ন করে। তাদের প্রথম বিশ্বাসের মতই আল্লাহ এ বিশ্বাসকেও কুফরী বলে মন্তব্য করেছেন। -তাফসীরে আহসানুল বায়ান[2]

এথেকে বোঝায় যায় কুরআনের লেখক সে মনে করত খ্রীষ্টানদের ত্রিত্ববাদ বলতে তারা বিশ্বাস করে “পুত্র(যীশু খ্রীষ্ট), মাতা এবং পিতা(আল্লাহ)”। সেই জন্য কুরআনের বেনামী লেখক দাবি করেছেন “আল্লাহর কিভাবে পুত্র হতে পারে তার কোন স্ত্রী নাই”

“‘আর নিশ্চয় আমাদের রবের মর্যাদা সমুচ্চ। তিনি কোন সংগিনী গ্রহণ করেননি এবং না কোন সন্তান’।” ৭২:৩ আল-বায়ান”

“আর তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি পবিত্র মহান; বরং আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা তাঁরই । সব তাঁরই অনুগত।”  ২:১১৬ আল-বায়ান

মুসলিমরা দাবি করে, “কুরআন আল্লাহর কিতাব” একজন খ্রীষ্টানের অবশ্যই মনে হতে পারে, “এটা কিভাবে সম্ভব!  সৃষ্টিকর্তা  ত্রিত্ববাদের ধারনা জানেন না? যেহেতু কুরআনে ত্রিত্ববাদ নিয়ে ভূল ব্যাখ্যা করা হয়েছে?

Thursday, January 18, 2024

Saturday, January 13, 2024

বাইবেল ও কুরআন মতে ইস্রায়েলের ভূমি কাদের জন্য নির্ধারিত? ইহুদীদের না কি মুসলিমদের?

বাইবেল ও কুরআন মতে ইস্রায়েলের ভূমি কাদের জন্য নির্ধারিত? ইহুদীদের না কি মুসলিমদের?

 


বাইবেল ও কুরআন মতে ইস্রায়েলের ভূমি কাদের জন্য নির্ধারিত? ইহুদীদের না কি মুসলিমদের?

 

জবাবঃ মুসলিম উগ্রবাদীদের কাছে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে কারণে তারা অনেক ক্ষেত্রেই কুরআনের রায় লঙ্ঘন করে মতামত দিতে ও কাজ করতেও দ্বিধা বোধ করে না। পবিত্র ভূমি ইস্রায়েলের ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। কুরআনে পরিস্কারভাবে এই ভূমির অধিকার ইহুদীদের জন্য নির্দিষ্ট বলা হলেও অন্য ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর উপর প্রভাব বিস্তার করে তাদের হীন অবস্থায় দেখানোর মানসে মুসলিম উগ্রবাদীরা এই কথা কখনোই স্বীকার করতে চায় নি যদিও তাঁদের অনেক মুহাদ্দিস এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে মতামত দিয়েছেন।

কুরআনের সুরা মায়েদা(৫)এর  ২০ থেকে ২৬ নং আয়াত দেখি-

 

(20    যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে পয়গম্বর সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি করেছেন এবং তোমাদেরকে এমন জিনিস দিয়েছেন, যা বিশ্বজগতের কাউকে দেননি।


(21    হে আমার সম্প্রদায়, পবিত্র ভুমিতে প্রবেশ কর, যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং পেছন দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।


(22    তারা বললঃ হে মূসা, সেখানে একটি প্রবল পরাক্রান্ত জাতি রয়েছে। আমরা কখনও সেখানে যাব না, যে পর্যন্ত না তারা সেখান থেকে বের হয়ে যায়। তারা যদি সেখান থেকে বের হয়ে যায় তবে নিশ্চিতই আমরা প্রবেশ করব।’


(23    খোদাভীরুদের মধ্য থেকে দু’ব্যক্তি বলল, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেনঃ তোমরা তাদের উপর আক্রমণ করে দরজায় প্রবেশ কর। অতঃপর তোমরা যখন তাতে পবেশ করবে, তখন তোমরাই জয়ী হবে। আর আল্লাহর উপর ভরসা কর যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।


(24     তারা বললঃ হে মূসা, আমরা জীবনেও কখনো সেখানে যাব না, যতক্ষণ তারা সেখানে থাকবে। অতএব, আপনি ও আপনার পালনকর্তাই যান এবং উভয়ে যুদ্ধ করে নিন। আমরা তো এখানেই বসলাম।


(25    মূসা বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমি শুধু নিজের উপর ও নিজের ভাইয়ের উপর ক্ষমতা রাখি। অতএব, আপনি আমাদের মধ্যে ও এ অবাধ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ করুন।


(26    বললেনঃ এ দেশ চল্লিশ বছর পর্যন্ত তাদের জন্যে হারাম করা হল। তারা ভুপৃষ্ঠে উদভ্রান্ত হয়ে ফিরবে। অতএব, আপনি অবাধ্য সম্প্রদায়ের জন্যে দুঃখ করবেন না।


 উপরের আয়াতগুলোতে এটা একেবারেই পরিস্কার যে, ইস্রায়েলের পবিত্র ভূমি ইহুদীদের জন্য লিখে(নির্ধারিত করে) দেয়া হয়েছে। কিন্তু যারা এই রায়ে নির্ভর করতে পারেনি তাদের জন্য ৪০ বছরের জন্য এই ভূমি নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছিল, বাকী ইহুদীরা ও তাঁদের সন্তানরা পরে এই ভূমিতে প্রবেশ করেছিল। তাফসিরেও পরিস্কারভাবে এই বিষয়টি বলা হয়েছে-

https://www.hadithbd.com/quran/link/?id=695 

 

কিন্তু পরিতাপের বিষয় মুসলিমদের সৃষ্টিকর্তা যা লিখে দিয়েছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন অর্থাৎ এটি একটা চিরস্থায়ী অধিকাররূপের ইহুদীদের দেয়া হয়েছে, এই সহজ বিষয়টি রাজনৈতিক কারণে মুসলিমরা স্বীকার করতে চায় না। তাঁরা মুখে আল্লাহকে মান্য করে বললেও কাজে তা স্বীকার করে বলে মোটেই মনে হয় না, তা না হলে ইস্রায়েল দেশ ইহুদীদের থেকে কেড়ে নেয়ার দাবী তাঁরা কখনও করত না। 

কুরআনে বর্ণিত ইস্রায়েলের রাজা দায়ুদ ও সোলায়মান এই ভূমিতেই রাজ্য শাসন করেছিলেন। এক্ষেত্রে বাইবেলের সাথেও কুরআনের মিল পরিলক্ষিত হয় -

 https://www.bible.com/bible/2412/NUM.14.BCV  

কিন্তু কুরআন এবং বাইবেল উভয় থেকেই এটা পরিস্কার যে, তাঁদের জন্য এই ভূমি অধিকার হিসাবে দেয়া হয়েছিল এবং এলোহিমের((ঈশ্বরের) প্রতি অবিশ্বাসের জন্য তাঁদের জন্য সাময়িকভাবে এই ভূমি কিছু অবাধ্য মানুষের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কুরআন ও বাইবেল উভয়েই এ ব্যাপারে ঐক্যমত্য পোষণ করে যে বেশ কিছু ইহুদীকে পাপ ও অবাধ্যতার জন্য শাস্তি দেয়া হয়েছিল কিন্তু পুরো ইহুদী জাতিকে এই ভূমি থেকে অধিকারচ্যুত করার কোন ঘোষণা কুরআন বা বাইবেল দেয় নাই। বাইবেলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা হয়েছে। ঘটনাক্রম হিসাবে বলা হলে এ ব্যাপারে নিম্নোক্তভাবে ব্যখ্যা করা যায়-

 

১) আব্রাহামের প্রতি এই দেশ দেয়ার প্রতিজ্ঞাঃ আদিপুস্তক ১৫ঃ১৮

   https://www.bible.com/bible/2412/GEN.15.BCV 

 

২) ইস্রায়েলীদের পাপের কারণে শাস্তি দেয়া হলেও, এমনকি দেশ থেকে বিতাড়িত করলেও এলোহিম তাঁদের পূর্বপুরুষদের প্রতি করা প্রতিজ্ঞাকে স্মরণ করবেনঃ লেবীয় ২৬ঃ৪৪

https://www.bible.com/bible/2412/LEV.26.BCV 

 

৩) মোশির নিকট পুনরায় এই ঘোষণা ব্যক্ত করা হয়েছেঃ দ্বিতীয় বিবরণ ৩৪ঃ৪

https://www.bible.com/bible/2412/DEU.34.BCV 

 

৪) ইয়েহশুয়া(যিহোশুয়)-এর নেতৃত্বে পবিত্র ভূমি ইস্রায়েলে প্রবেশঃ যিহোশুয় ৪ঃ১৯

https://www.bible.com/bible/2412/JOS.4.BCV 

 

৫) পাপের দরূন আসিরিয়ার রাজা কর্তৃক উত্তরের রাজ্য ইস্রায়েলের পতন ও ইস্রায়েলীদের আসিরিয়ায় বন্দী করে নিয়ে যাওয়ার ভবিষ্যৎবাণীঃ ১ রাজাবলী ১৪ঃ১৫

https://www.bible.com/bible/2412/1KI.14.BCV 

 

৫) দক্ষিণের রাজ্য যিহুদার পতন ও যিহুদার ইহুদীদের ব্যাবিলনে বন্দী করে নিয়ে যাওয়ার বর্ণনাঃ ২ রাজাবলী ২৪ অধ্যায়

https://www.bible.com/bible/2412/2KI.24.BCV 

 

৬) ইস্রায়েলীদের ব্যাবিলনে ৭০ বছর নির্বাসিত থাকার ভবিষ্যৎবাণীঃ যিরমিয় ২৫ঃ ১১

https://www.bible.com/bible/2412/JER.25.BCV 

 

৭) ৭০ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে ইস্রায়েলে ফিরে আসার ডিক্রি জারিঃ ইষ্রা ১ঃ১-২

https://www.bible.com/bible/2412/EZR.1.BCV 

 

৮) জেরুশালেম ধবংসের ব্যাপারে ইয়েহশুয়া হা মাসিয়াখ(যীশু খ্রীষ্ট)-এর ভবিষ্যৎবাণীঃ মার্ক ১৩ঃ২ 

https://www.bible.com/bible/2412/MRK.13.BCV 

 

৯) শেষ সময়ে ইহুদীদের/ইস্রায়েলীদের আবার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ইস্রায়েলে ফিরে আসা ও ইস্রায়েল রাস্ট্রের প্রতিষ্ঠার ভবিষ্যৎবাণীঃ যিহিস্কেল ৩৬ অধ্যায়

  https://www.bible.com/bible/2412/EZK.36.BCV 

 

১০) এই ইস্রায়েল রাস্ট্রের পতন আর হবে নাঃ

 

যিহিস্কেল ৩৭ অধ্যায় ২৫ পদ

 

যে দেশ আমি আমার দাস যাকোবকে দিয়েছি, যে দেশে তাদের পূর্বপুরুষেরা বাস করেছে সেখানেই তারা বাস করবে। তারা, তাদের ছেলেমেয়েরা ও নাতিপুতিরা সেখানে চিরকাল বাস করবে এবং আমার দাস দাউদ চিরকাল তাদের রাজা হবে। 

 

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম বাইবেলে ইহুদী জাতির প্রতি এই ইস্রায়েল দেশ দেয়ার প্রতিশ্রুতি যেমন ব্যক্ত হয়েছে তেমনি পাপের কারণে তাঁদের এই ভূমি থেকে সাময়িকভাবে বিতাড়িত করারও ভবিষ্যৎবাণী বাইবেলে আছে যা পরে আসিরিয় ও ব্যাবিলনীয় রাজাদের কর্তৃক তাঁদের নির্বাসিত করার মাধ্যমে এর পরিপূর্ণতা পায়। ইয়েহশুয়া হা মাসিয়াখ(যীশু খ্রীষ্ট) আরেকবার জেরুশালেম মন্দির ধ্বংসের ভবিষ্যৎবাণী করেন যা ৭০ সালে পূর্ণ হয়। এবার বেশীরভাগ ইহুদীরা মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প অংশই ইস্রায়েলে থেকে যায়। পরে ১৯৪৮ সালে ইস্রায়েলের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে ইস্রায়েল রাস্ট্র পূনর্গঠিত হওয়ার আগে ও পরে ইহুদীরা বিভিন্ন দেশ থেকে ইস্রায়েলে বসতি স্থাপন করে যার ভবিষ্যৎবাণী যিহিস্কেল ৩৬ অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে বিবৃত হয়েছে। যিহিস্কেল ৩৭ঃ২৫ পদ অনুযায়ী এরপর থেকে ইস্রায়েল রাস্ট্র থেকে ইহুদীরা আর বিতাড়িত হবে না আর এর মধ্য দিয়ে আদিপুস্তক ১৫ঃ১৮ পদে আব্রাহামকে করা এলোহিমের প্রতিশ্রুতির পরিপূর্ণতা পাবে।

 

আশ্চর্যজনকভাবে কুরআনেও এই কথাগুলোই ভিন্নভাবে ব্যক্ত হয়েছে। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে ইহুদীদের অবাধ্যতা ও পাপের কথা বিবৃত হয়েছে, কিন্তু এই পাপের কারণে তাদেরকে ইস্রায়েল রাস্ট্রের অধিকার থেকে বিচ্যুত করা হয়েছে এমন বর্ণনা কুরআনের কোথায়ও নেই, কিন্তু কিছু আয়াতের অপব্যাখ্যা করে কিছু মুসলিম দা’য়ী রাজনৈতিক কারণে এটা দেখাতে প্রচেষ্টা পায় যে, ইহুদীদের ইস্রায়েল রাস্ট্রের দাবী কুরআন প্রত্যাহার করেছে। কিন্তু তাঁদের এই অপচেষ্টাকে কুরআনই নস্যাৎ করে দিয়েছে। মুসলিম দা’ইয়ীরা এই প্রচেষ্টায় যে আয়াতগুলোকে ব্যবহার করে সেগুলো হলো-

 আল কুরআন, আরাফ  ৭ : ১২৮

আল কুরআন, ইউনুস  ১০ : ৮৪

আল কুরআন, ইউনুস  ১০ : ৭২

আল কুরআন, বাকারাহ  ২ : ১৩২

আল কুরআন, আলে ইমরান  ৩ : ৬৭

আল কুরআন, বাকারাহ  ২ : ১২৪

আল কুরআন, মায়িদাহ  ৫ : ১২-১৩

আল কুরআন, বাকারাহ  ২ : ৬১

আল কুরআন, বাকারাহ  ২ : ৮৭

আল কুরআন, বাইয়িনাহ  ৯৮ : ৬

 

উপরের আয়াতগুলো যেগুলোকে মুসলিম দা’ইয়ীরা ইহুদীদের পবিত্র ভূমি ইস্রায়েলের অধিকার হতে তাঁদের বিচ্যুত করার দলিল হিসাবে উপস্থাপন করে, আয়াতগুলো যে কেউ পড়লে এটা পরিস্কার বুঝতে পারবেন যে, এগুলোতে ইস্রায়েলের পবিত্র ভূমির দাবীকে কোথায়ও প্রত্যাহার করা হয়নি, বরং তাঁদের বিভিন্ন অবাধ্যতার কথাই ব্যক্ত হয়েছে। সুতরাং এই আয়াতগুলোকে ইস্রায়েলের দাবী থেকে ইহুদীদের অস্বীকার করার করার দলিল হিসাবে উপস্থাপন করা কুরআনের মর্মবাণীকে অস্বীকার করার সামিল ।

 

আমরা নীচের গুরুত্বপূর্ণ আয়াতের দিকে নজর দেই-

 

 ১৭ নম্বর সুরা ইসরা বা বনী ইস্রাঈল-এর ১০৩-১০৪ নং আয়াতে আমরা দেখতে পাই-

অতঃপর সে তাদেরকে দেশ থেকে উৎখাত করার ইচ্ছা করল; তখন আমি তাকে ও তার সাথে যারা ছিল সকলকে ডুবিয়ে দিলাম। আল-বায়ান

 

আর আমি এরপর বনী ইসরাঈলকে বললাম, ‘তোমরা যমীনে বাস কর, অতঃপর যখন আখিরাতের ওয়াদা আসবে তখন আমি তোমাদেরকে জড়ো করে নিয়ে আসব’। আল-বায়ান



মুসার সময়ে ফেরাউন যখন বনী ইসরাঈলকে উৎখাত করতে চেয়েছিল তখনকার ঘটনা বর্ণনা করা হচ্ছে আলোচ্য আয়াতে। ফেরাউনের এই প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ হল তখনই বনী ইসরাঈলকে জমিনে অর্থাৎ ইস্রায়েলে বসবাস করতে বলা হয়েছে এবং তখন থেকে কেয়ামত পর্যন্ত তাঁদের এই জমিন অর্থাৎ ইস্রায়েলে বসবাস করতে বলা হয়েছে। এরপর কেয়ামতের সময় সবাইকে বিচারের জন্য জড়ো করা হবে। অর্থাৎ কুরআন অনুযায়ী নিরবিচ্ছিন্নভাবে ইস্রায়েল ভূমির অধিকার ইহুদীদের দেয়া হয়েছে পরিস্কারভাবে । এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে আহসানুল বায়ানও এই কথাই ব্যক্ত করেছে-

(১০৪) এরপর আমি বানী ইস্রাঈলকে বললাম, ‘তোমরা এই দেশে বসবাস কর।[1] অতঃপর যখন কিয়ামতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে, তখন তোমাদের সকলকেই আমি একত্রিত করে উপস্থিত করব।’

[1] বাহ্যিকভাবে ‘এই দেশে’ বলতে মিসরই উদ্দেশ্য; যেখান থেকে ফিরআউন মূসা (আঃ) ও তাঁর সম্প্রদায়কে বের করে দেওয়ার ইচ্ছা করেছিল। কিন্তু বানী-ইস্রাঈলের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, তারা মিসর থেকে বের হওয়ার পর পুনরায় মিসর যায়নি। বরং চল্লিশ বছর ‘তীহ’ প্রান্তরে থাকার পর ফিলিস্তীনে প্রবেশ করে। আর এই সাক্ষ্য সূরা আ’রাফ ইত্যাদিতে কুরআনের বর্ণনা থেকে পাওয়া যায়। কাজেই সঠিক উক্তি হল, এ দেশ থেকে ফিলিস্তীনকে বুঝানো হয়েছে।

 

কুরআনের স্পষ্ট ও দ্বর্থ্যহীন বাক্যকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ও অন্য জাতির উপর জবরদস্তি চালানোর হীন মানসিকতায় বহু মুসলিম দা’ইয়ী ইস্রায়েল ভূমিতে ইহুদীদের দাবীকে অস্বীকার করার প্রচেষ্টা চালান যা অতীব নিন্দনীয়। আমরা তাঁদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক এই কামনাই করি এবং এই পৃথিবীকে সংঘাতহীন ও শান্তিপূর্ণ করতে অবদান রাখার আহবান জানাই।

 

তিনটি মুসলিম কুযুক্তিঃ

 

১) আল্লাহর ওয়াদা জালিমদের জন্য নয়ঃ কোন কোন মুসলিম দা’য়ী সুরা বাকারার ১২৪ নাম্বার আয়াত দেখিয়ে এটা প্রমাণ করতে চান যে, ইহুদী জাতিদের ইস্রায়েল ভূমি থেকে অধিকার প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে-

                                  সুরা বাকারা ২ঃ১২৪

 

আর স্মরণ কর, যখন ইবরাহীমকে তার রব কয়েকটি বাণী দিয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর সে তা পূর্ণ করল। তিনি বললেন, ‘আমি তোমাকে মানুষের জন্য নেতা বানাব’। সে বলল, ‘আমার বংশধরদের থেকেও’? তিনি বললেন, ‘যালিমরা আমার ওয়াদাপ্রাপ্ত হয় না’। আল-বায়ান

 

আমরা পূর্বের আলোচনা থেকে দেখতে পাই এই কথাগুলো শুধু তাঁদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যারা অবাধ্য, এর নিদর্শন আমরা সুরা মায়েদার(৫) ২১ থেকে ২৬ নং আয়াতেও দেখতে পাই যা নিয়ে একেবারে প্রথমেই আলোচনা করা হয়েছে, অর্থাৎ ইহুদী বা ইস্মায়েলীয় যেই হোক না কেন যারা অবাধ্য তাঁদের জন্য আল্লাহর ওয়াদা প্রযোজ্য নয়, শুধুমাত্র বাধ্যরাই এই ওয়াদার অন্তর্ভূক্ত। কুরআন এক্ষেত্রে বাইবেলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারণ বাইবেলেও অবাধ্য ইস্রায়েলীদের কারনে তাঁদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল কিন্তু এলোহিম শেষ পর্যন্ত তাঁদের বংশধরদের পুনরায় ইস্রায়েলে ফিরিয়ে এনেছিলেন। 

 

২) মুসলিম সাহাবীরা কেন জেরুশালেম দখল করে ইসলামী খেলাফতের অধীনে এনেছিলেনঃ

রাজনৈতিক কারণে ইস্রায়েল মুসলিম শাসনে আসলেও ইস্রায়েলের প্রতি ইহুদীদের অধিকার খর্ব হয় না এবং মুসলিম খলিফারা এজন্য জেরুশালেম থেকে ইহুদীদের উৎখাতও করেননি যা তাঁরা মক্কা মদিনা ও আরবের ক্ষেত্রে করেছিলেন। শুধু তাই নয় খলিফা উমর বায়তুল মোকাদ্দাসের স্থানে কোন মসজিদও নির্মান করেননি। সুতরাং এই যুক্তি ইহুদীদের ইস্রায়েল ভূমি দাবীর সাথে সম্পর্কহীন।

 

৩) অনেক মুসলিম দা’ইয়ী দাবী করেন ইহুদীরা মুমিন নয় বা মুসলিম নয়, তাই তাঁরা কোন অঙ্গীকারের অধীন নয়, তাঁরা মুহাম্মদকে নবী হিসাবে মানে নি তাই তাঁরা বর্তমানে ইস্রায়েল রাস্ট্রের অধিকার থেকে বিচ্যুত হয়েছে, এখন এই ভূমি মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু এ সকল তথাকথিত দা’ইয়ী কুরআনের বিরূদ্ধেই একথাগুলো বলে থাকেন। ৫ নং সুরা মায়েদার ৪৩ নং আয়াতে পরিস্কারভাবে মুমিন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তারা যদি কুরআনের অন্য আয়াত দেখিয়ে ইহুদীরা মুমিন নয় বলে দাবী করেন তাহলে এটা তারা স্বীকার করে নেন যে, কুরআন বৈপরীত্যে পূর্ণ। আমরা আয়াতটি দেখব-

                                              কুরআন, ৫ সুরা মায়েদা ৫ঃ৪৩

 

আর কীভাবে তারা তোমাকে ফয়সালাকারী বানায়? অথচ তাদের কাছে রয়েছে তাওরাত, যাতে আছে আল্লাহর বিধান, তা সত্ত্বেও তারা এরপর মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তারা মুমিনও নয়। আল-বায়ান

 

এই আয়াতে ইহুদীদের কাছে রক্ষিত তাওরাতের বিধান যারা অস্বীকার করে তারা মুমিন নয় এ কথাই স্পষ্টভাবে ব্যক্ত হয়েছে। সুতরাং তাওরাত অনুসরনকারী ইহুদীরা মুহাম্মদকে অনুসরন না করলেও বা মেনে না নিলেও কুরআনের দৃষ্টিতে মুমিন বলে গণ্য। সুতরাং মুসলিম দৃষ্টিভঙ্গীতেও তাওরাত অনুসরণকারী ইহুদী মুমিনরা নিশ্চিতভাবেই পবিত্র ভূমি ইস্রায়েলের দাবীদার। 



শেষ কথাঃ মুসলিম দা’ইয়ীদের দাবী মুসলিমরা এখন ন্যায্য ধর্ম, ন্যায্য পথের অনুসারী আর ইহুদীরা অভিশপ্ত(সুরা ফাতেহার তাফসির অনুযায়ী)। তাহলে প্রশ্ন হল এই অভিশপ্ত(?) ইহুদীরা কিভাবে আল্লাহর সঠিক দ্বীনের অনুসারী মুসলিম আরব রাস্ট্রগুলিকে সীমিত শক্তি ও সম্পদ দিয়ে ১৯৪৮ ও ১৯৬৭ সালে পরাজিত করেছে? আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া যদি কিছু না হয়ে থাকে তাহলে এই পরাজয় আল্লাহ মুসলিমদের কপালে অভিশপ্ত(?) ইহুদীদের দ্বারা কেন লিখে দিলেন?